Sponsored

কারা দেবেন সদকাতুল ফিতর?

 


শিরোনাম: ঈদের দিন আদায়যোগ্য ‘সদকাতুল ফিতর’ মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত

সংবাদ প্রতিবেদন:

পবিত্র রমজান মাসের শেষে ঈদুল ফিতরের দিন আদায়যোগ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের নাম হলো সদকাতুল ফিতর। এটি মুসলিম সমাজে জাকাতুল ফিতর বা সংক্ষেপে ফিতরা নামেও পরিচিত।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রমজানের রোজা শেষ হওয়ার পর নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এর মূল উদ্দেশ্য হলো— আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা এবং সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের ঈদের আনন্দে শরিক করা।

সদকাতুল ফিতরের তাৎপর্য
‘সদকা’ শব্দের অর্থ হলো দান, আর ‘ফিতর’ মানে হলো রোজা ভাঙা বা শেষ হওয়া। অর্থাৎ রমজান মাসের শেষে ঈদের দিন যে সদকা আদায় করা হয়, সেটাই সদকাতুল ফিতর। এটি এমন একটি ইবাদত, যা ঈদের আনন্দের পাশাপাশি মানুষের হৃদয়ে সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও একতা সৃষ্টি করে।

কোরআনের দৃষ্টিতে পরিশুদ্ধির মাধ্যম
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন—

“সাফল্য লাভ করবে সে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, আর তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও নামাজ কায়েম করে।”
— (সূরা আ‘লা, আয়াত: ১৪-১৫)

উক্ত আয়াতে ‘পরিশুদ্ধ করা’-র অন্তর্ভুক্ত হিসেবে ব্যাখ্যাকারীরা সদকাতুল ফিতরকেও ধরেছেন। এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মত্যাগ এবং দরিদ্রের অধিকার আদায়ের একটি চমৎকার পন্থা।

কারা দেবেন সদকাতুল ফিতর?
যে ব্যক্তি নিজ প্রয়োজন ও পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মিটিয়ে বাড়তি সম্পদের মালিক, তার জন্য সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এটি প্রাপ্তবয়স্ক, নাবালক, পুরুষ, নারী— সকল মুসলিমের পক্ষে আদায় করা যায়।

সামাজিক দৃষ্টিকোণ
ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে ঈদের দিন সমাজের দরিদ্র মানুষদের সাহায্য করা হয়, যেন তারাও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। এটি সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।

উপসংহার:
সদকাতুল ফিতর শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়, বরং এটি মুসলিম সমাজে মানবিকতা, উদারতা ও ঈমানি দায়িত্ববোধের পরিচায়ক। তাই প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলিমের উচিত ঈদের আগেই ফিতরা আদায় করে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।

Post a Comment

0 Comments