Sponsored

ইনশাআল্লাহ’ বলার ফজিলত ও শিক্ষা:



শিরোনাম: কথায় ও কাজে 'ইনশাআল্লাহ' বলা কেন জরুরি? কোরআনের আলোকে শিক্ষা

সংবাদ প্রতিবেদন:
মুসলিমদের জীবনে ‘ইনশাআল্লাহ’ (যদি আল্লাহ চান) শব্দটি শুধু একটি বাক্যাংশ নয়, বরং এটি ঈমান ও তাওয়াক্কুলের (আল্লাহর ওপর ভরসা) গভীর প্রতিচ্ছবি। কোনো ভবিষ্যৎকর্মের বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রকাশের আগে এ শব্দটি উচ্চারণ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।

নিজের শক্তি বা সম্পদের ওপর নির্ভর না করে একজন মুমিন বিশ্বাস করে, সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এ জন্যই মুসলমানরা বলে, “ইনশাআল্লাহ, আমি কাজটি করব।” পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তাআলা এ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন,
“তুমি কখনো কোনো বিষয়ে একথা বোলো না যে, আমি এটি আগামীকাল করব— ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলে।”
— (সুরা কাহফ, আয়াত ২৩-২৪)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ভবিষ্যতের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস থাকলেও আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই ঘটতে পারে না। এমনকি ভুল করে ‘ইনশাআল্লাহ’ না বললে, পরে তা স্মরণ হলে আল্লাহকে স্মরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলতেন নবীরাও:
পবিত্র কোরআনে বহু নবীর মুখে এই পরিভাষার ব্যবহার দেখা যায়। হজরত ইয়াকুব (আ.), খিজির (আ.), শোয়াইব (আ.) ও মুসা (আ.) সবাই কথোপকথনে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, হজরত মুসা (আ.) যখন খিজির (আ.)-এর সান্নিধ্যে থেকে জ্ঞান অর্জন করতে চাইলেন, তখন তিনি বলেছিলেন:
“ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল হিসেবে পাবেন।”
— (সুরা কাহফ, আয়াত ৬৯)

সংক্ষেপে:
‘ইনশাআল্লাহ’ বলা শুধু মুখের কথা নয়; বরং এটি মানুষের আত্মসমর্পণ ও আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতার বহিঃপ্রকাশ। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি সৌভাগ্যের কথা, কারণ এটি বিশ্বাস, বিনয় এবং ভবিষ্যতের ব্যাপারে সঠিক মনোভাব গঠনের শিক্ষা দেয়।

শিরোনাম: জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুমিন আল্লাহর ওপরই ভরসা করে

সংবাদ প্রতিবেদন:
একজন প্রকৃত মুমিনের জীবন চলার পথ আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর ওপর নির্ভরতার মাধ্যমে গঠিত হয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি কাজের শুরুতে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাঁরই ওপর ভরসা রাখে।

আল্লাহতায়ালা কোরআনে ইরশাদ করেন—
“আর তোমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করো। তিনি যথেষ্ট ভরসাস্থল।”
— (সুরা আহজাব: ৩)

এই ভরসা কেবল মুখের কথা নয়, বরং এটি মুমিনের অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণের প্রতীক। মুমিন জানে, চেষ্টার ফল একমাত্র আল্লাহর হাতে। তাই সে চেষ্টা করে, কিন্তু তার আস্থা থাকে আল্লাহর রহমতে।

তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর নির্ভরতা ইসলামী জীবনের একটি কেন্দ্রীয় শিক্ষা। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন—
“তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথ ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের এমনভাবে রিজিক দিতেন, যেমনটি তিনি পাখিকে দেন; সকালবেলায় খালি পেটে বের হয়, আর সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।”
— (তিরমিজি)

সংক্ষেপে:
জীবনের প্রতিটি কাজে মুমিন আল্লাহর সাহায্য কামনা করে এবং ফলাফল তাঁর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়। এই ঈমান ও তাওয়াক্কুলের শিক্ষা একজন মুসলমানকে ধৈর্যশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং সাহসী করে তোলে— কারণ সে জানে, তার পাশে আছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ।

 

 

Post a Comment

0 Comments