আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অল বিডি নিউজ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় ৮০ বছর পর প্রথমবারের মতো স্থায়ীভাবে বিদেশের মাটিতে সেনা মোতায়েন করল জার্মানি। চলতি সপ্তাহে দেশটির একটি পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র ব্রিগেড লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে পৌঁছেছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর এনবিসি নিউজ।
ভিলনিয়াসে আয়োজিত এক সামরিক অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর মার্জ বলেন, “আমাদের বাল্টিক মিত্রদের নিরাপত্তা মানেই আমাদের নিরাপত্তা। এটি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও রাশিয়ার আগ্রাসনমূলক ভূরাজনৈতিক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে জার্মানির এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক এবং কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
রাশিয়ার হুমকি ও ইউরোপের প্রস্তুতি
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসন এবং সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় বেলারুশ ও রাশিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেডা সতর্ক করে বলেন, “এই মহড়া নিছক কৌশল নয়, এটি একটি শক্ত বার্তা।”
চ্যান্সেলর মার্জও রাশিয়ার উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি কেউ ন্যাটোর কোনো সদস্যকে হুমকির মধ্যে ফেলে, তাহলে পুরো জোট একত্রে তার জবাব দেবে।”
মোতায়েনকৃত ব্রিগেডের কাঠামো
নতুনভাবে মোতায়েন হওয়া জার্মান ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ার রুডনিনকাই শহরে অবস্থান করবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করবে। এতে প্রায় ৪,৮০০ সেনা, কয়েকশ বেসামরিক কর্মী, প্রায় ২,০০০ সামরিক যান ও সাঁজোয়া ইউনিট থাকবে।
সামরিক নীতিতে বড় পরিবর্তন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে জার্মান সংবিধান সেনাবাহিনীকে মূলত প্রতিরক্ষার সীমায় রাখার পক্ষে ছিল। কিন্তু রাশিয়ার সাম্প্রতিক আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের আভাস—সব মিলিয়ে বার্লিনে সামরিক নীতিতে বড় ধরনের রূপান্তর দেখা যাচ্ছে।
জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়ুস জানান, সেনাবাহিনীতে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক না মিললে ২০২৬ সাল থেকে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর ইউরোপীয় নির্ভরতা কমছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে হবে—এমন বার্তা স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই বাস্তবতায়, ন্যাটোর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত ‘সুওয়াকি গ্যাপ’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোতে সেনা উপস্থিতি জোরদার করছে জার্মানি।

0 Comments