Sponsored

গাজায় ঈদের পরদিন ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৭৫, আহত শতাধিক — আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ

  

গাজায় ঈদের পরদিন ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৭৫, আহত শতাধিক — আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ঈদুল আজহা উদযাপিত হয় গত ৬ জুন। কিন্তু ঈদের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই, ৭ জুন (শনিবার) ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় আবারও রক্তাক্ত হলো গাজা। উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় চালানো বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৫ জন, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন।

রোববার গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। বিভাগটি জানায়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে একাধিকবার বোমা ফেলা হয় জনবসতিপূর্ণ এলাকায়, যার ফলে বহু আবাসিক ভবন ধসে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন বহু মানুষ। নারী ও শিশুসহ হতাহতদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

হামলার ফলে গাজার হাসপাতালগুলোতে আবারও চিকিৎসাসেবার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। আহতদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ঘটনাকে “আবারও মানবিক বিপর্যয়ের শুরু” বলে আখ্যায়িত করেছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

এই হামলা এমন এক সময় ঘটল, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছিল। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হামাসের ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের মতে, ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।” তুরস্ক, কাতার, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আরও কয়েকটি দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ঘটনাকে স্বাধীন তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।


উপসংহার:
গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ঈদের দিন পরবর্তী এই হামলা শুধু ফিলিস্তিনের জনগণের দুঃখ বাড়িয়েছে না, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে আদৌ কি একটি টেকসই শান্তি সম্ভব?







Post a Comment

0 Comments