Sponsored

তাপমাত্রার সঙ্গে দোলে বিদ্যুৎ সরবরাহ






দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আবহাওয়া ও তাপমাত্রার ওপর। তাপমাত্রা বাড়লেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, সেচ পাম্পসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে হঠাৎ চাহিদার চাপ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সংকট এবং উৎপাদন সক্ষমতার ঘাটতির কারণে সেই অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। ফলে বাড়ছে লোডশেডিং, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। আবার বৃষ্টি বা তাপমাত্রা কমে এলে বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত নেমে আসে। তখন একই উৎপাদন সক্ষমতায় তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকে সরবরাহ, কমে লোডশেডিংও। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের গ্রিডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সময় যেখানে দুই থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে, সেখানে বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া শীতল হওয়ার পর সেই ঘাটতি


নেমে এসেছে কয়েকশ মেগাওয়াটে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এই বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও উৎপাদন সক্ষমতা না বাড়ালে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আবহাওয়ার দোলাচল থেকে মুক্তি পাবে না।


গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে, তীব্র লোডশেডিং পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনেক স্থানে মানুষ দিনের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে কোনো কোনো এলাকার সংসদ সদস্যরাও সরকারের কাছে তাদের নির্বাচনী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

বাস্তবতা হলো, বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহ কম থাকায় সরকারকে লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ করতে হচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট পরিমাণ লোডশেডিং এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে হাসপাতাল, শিল্পাঞ্চল, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামোর কার্যক্রম সচল রাখতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) তুলনামূলকভাবে শহরাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে লোডশেডিংয়ের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হচ্ছে।


ফলে গ্রামীণ জনগণের মধ্যে বিদ্যুৎ বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন, অভিযোগ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং সুষম বণ্টন ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ২৬ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত গড়ে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। কোনো কোনো দিন সেটা সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো সরকারি হিসাবে লোডশেডিং দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট দেখালেও সেটা অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পিজিসিবির হিসাবে দেখা যায়, গত ২৭ জুন বেলা ৪টার সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৯৫ মেগাওয়াট, উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ২৪১ মেগাওয়াট, এ সময় লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৫৪ মেগাওয়াট। আবার ২৮ জুন দুপুর ২টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট, এ সময় উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৭৩ মেগাওয়াট, লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াট। প্রতি ঘণ্টায় সেটা কখনও লোডশেডিং বেড়েছে কখনও কমেছে। এদিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমার কারণে ৩০ জুন এবং গতকাল ১ জুলাই লোডশেডিং অনেক কমে গেছে। ৩০ জুন রাতে বৃষ্টি এবং ১ জুলাই দিনের বেলা বৃষ্টি এবং মেঘলা পরিস্থিতির কারণে বিকাল ৫টায় বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হয় ১৪ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট, সরবরাহ হয় ১৩ হাজার ৭৮৬ মেগাওয়াট, লোডশেডিং হয় ৪৫৩ মেগাওয়াট। পিজিসিবির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য এবং আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি



Post a Comment

0 Comments